আধুনিক কথ্য বাংলা
Migration & family careআধুনিক কথ্য বাংলা

বিদেশে চাকরির সুযোগ এসেছে, কিন্তু বয়স্ক মা-বাবাকে রেখে যাব কীভাবে?

ভালোবাসাকে অপরাধবোধ আর উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বিশ্বাসঘাতকতা না বানিয়ে, আগে দেখভালের একটা বাস্তব নকশা, তারপর সিদ্ধান্ত।

2026-10-31 6 min · 1,392 words

Direct answer

যাওয়া আর না-যাওয়া, দুটোই দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত হতে পারে, যদি মা-বাবার দেখভালের একটা লিখিত পরিকল্পনা থাকে। আগে দেখুন তাঁদের আসল প্রয়োজন কী: ডাক্তার, ওষুধ, রোজকার সাহায্য, রাতবিরেতে কে পৌঁছবে, আর গল্প করার মানুষ। তারপর ভাইবোন, প্রতিবেশী, পেশাদার সাহায্য আর আপনার বছরে ক'বার ফেরা মিলিয়ে ফাঁকটা মাপুন। সিদ্ধান্তে মা-বাবাকে সঙ্গে রাখুন, তাঁদের হয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন না।

একই সন্ধ্যায় দুটো তারিখ

বেহালার সখেরবাজারের ফ্ল্যাটে মঙ্গলবার সন্ধে সাড়ে সাতটায় সৌমিকের ল্যাপটপে মেলটা এল। ডাবলিনের একটা সংস্থা, চৌত্রিশ বছরের এই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে তারা চায়, জয়েনিং মোটামুটি দশ সপ্তাহ পরে। মেলটা পড়তে পড়তেই চোখ গেল দেওয়ালে, পাড়ার মিষ্টির দোকানের দেওয়া ক্যালেন্ডারে। আঠারো তারিখটা লাল কালিতে গোল করা: বাবার কার্ডিওলজিস্টের ফলো-আপ, মুকুন্দপুরে। গত শীতে বাবার অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হয়েছে, মায়ের হাঁটুর ব্যথায় সিঁড়ি ভাঙা এখন কষ্টের। রান্নাঘর থেকে মা ডাকলেন, খেতে আয়। সৌমিক ল্যাপটপটা অর্ধেক বন্ধ করে উঠে গেল, মেলের কথা কাউকে বলল না।

দুটো টানই সত্যি, কোনোটাই অপরাধ নয়

এই অবস্থায় বেশিরভাগ মানুষ নিজেকে দুটো দলে ভাগ করে ফেলেন। এক দল বলে, মা-বাবাকে ফেলে গেলে তুমি স্বার্থপর। আরেক দল বলে, এই সুযোগ ছাড়লে সারাজীবন আফসোস করবে। দুটো কথাই আংশিক সত্যি, আর দুটোই আপনাকে আটকে রাখে। আসল প্রশ্নটা একটু অন্যরকম: আমি কাছে না থাকলে মা-বাবার কোন কোন প্রয়োজন অপূর্ণ থাকবে, আর সেগুলো অন্যভাবে মেটানো যায় কি না। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে সিদ্ধান্তটা আবেগের দড়ি টানাটানি থেকে বেরিয়ে একটা পরিকল্পনার চেহারা নেয়। আর মনে রাখবেন, অনেক মা-বাবা মুখে বলেন আমাদের জন্য আটকে থাকিস না, কথাটা তাঁরা সত্যিই চান, আবার ভয়ও পান। দুটোই একসঙ্গে সত্যি হতে পারে।

আগে প্রয়োজনের তালিকা, পরে সিদ্ধান্ত

একটা কাগজে পাঁচটা ঘর টানুন। প্রতিটা প্রয়োজনের পাশে লিখুন এখন কে সামলাচ্ছেন, আপনি চলে গেলে কে সামলাবেন, আর কেউ না থাকলে কী ব্যবস্থা হতে পারে। শূন্য ঘরগুলোই আপনার আসল কাজের তালিকা।

প্রয়োজনএখন কে সামলানআপনি গেলে কেফাঁক থাকলে উপায়
ডাক্তার দেখানো, রিপোর্ট আনাআপনিবোন, আত্মীয় বা বিশ্বস্ত প্রতিবেশীভিডিও কলে ডাক্তারের সঙ্গে থাকা, হাসপাতালে যাওয়ার জন্য ঠিক করা গাড়ি
ওষুধ, রোজকার বাজারমা, আপনিমা, হোম ডেলিভারিমাসিক ওষুধের তালিকা, ডেলিভারির দোকানের নম্বর আগে থেকে ঠিক রাখা
রাতে হঠাৎ শরীর খারাপআপনিকেউ নেইকাছের একজন যিনি আসবেন বলে রাজি, নির্দিষ্ট হাসপাতাল, জরুরি নম্বর
ব্যাংক, পেনশন, কাগজপত্রবাবা, আপনিবাবা, দূর থেকে আপনিনমিনি ও অ্যাকাউন্টের কাজ এখনই গুছিয়ে রাখা
গল্প করার মানুষ, মনের সঙ্গআপনিফোন, পাড়ারোজ নির্দিষ্ট সময়ে কল, পাড়ার ক্লাব বা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ

তালিকাটা বানান ওঁদের সঙ্গে বসে

সবচেয়ে বড় ভুল হয় যখন সন্তান নিজেই ঠিক করে ফেলে মা-বাবার কী দরকার। তাঁরা হয়তো আয়া রাখতে চান না, হয়তো পুনেতে মেয়ের কাছে গিয়ে থাকার কথা ভাবতেই পারেন না, আবার হয়তো আপনি যা ভেবেছিলেন তার চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনভাবে চলতে চান। একটা রবিবার দুপুরে, খাওয়ার পরে, অফারের কথাটা খোলাখুলি বলুন। তারপর জিজ্ঞেস করুন, সিদ্ধান্ত জানাবেন না। তাঁদের উত্তর শুনে তালিকা বদলাবে, আর সেটাই হওয়া উচিত। মা-বাবা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, তাঁদের জীবনের ব্যবস্থায় তাঁদের কথাই প্রথম।

যে প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করা যায়

  • আমি বাইরে গেলে তোমাদের সবচেয়ে বেশি কোন জিনিসটা নিয়ে চিন্তা হবে?
  • হঠাৎ দরকার পড়লে পাড়ায় বা আত্মীয়দের মধ্যে কাকে ডাকতে তোমাদের সংকোচ হবে না?
  • দিনের কিছুটা সময় কাজে সাহায্যের জন্য কেউ এলে তোমাদের আপত্তি আছে কি?
  • বছরে কখন আমি এলে তোমাদের সবচেয়ে ভালো লাগবে, পুজোয় না অন্য সময়?
  • কোন ব্যাপারে তোমরা চাও না যে আমি নাক গলাই?

ভাইবোন থাকলে ভাগটা লিখে ফেলুন

সৌমিকের দিদি টুলি থাকেন পুনেতে। এমন পরিবারে একটা চুপচাপ ধারণা তৈরি হয়ে যায়: যে কাছে থাকে, দায়িত্ব তার, যে দূরে থাকে সে টাকা পাঠালেই যথেষ্ট। এই ধারণা থেকেই পরে তিক্ততা জন্মায়। একটা ভিডিও কলে বসে ঠিক করুন কে কোন খরচ দেবেন, বছরে কে কখন আসবেন, আর জরুরি অবস্থায় প্রথম ফোনটা কে ধরবেন। টাকা দেওয়া নিশ্চয়ই দায়িত্ব, কিন্তু উপস্থিতির বিকল্প নয়; তাই দূরের জনের ভাগে কিছু নির্দিষ্ট সময়ও রাখুন। একমাত্র সন্তান হলে এই ভাগ হবে আত্মীয়, পাড়ার বিশ্বস্ত কেউ আর পেশাদার সাহায্যের মধ্যে। উইল, পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি বা সম্পত্তির মতো আইনি কাগজের ব্যাপারে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন, আর ভিসা বা পরিবারকে সঙ্গে নেওয়ার নিয়মের জন্য দূতাবাস বা সরকারি সূত্র দেখুন, হোয়াটসঅ্যাপে ঘোরা কথায় ভরসা করবেন না।

ফেরার হিসাবটাও বেতনের হিসাবের অংশ

বিদেশের বেতন আর এখানকার বেতন পাশাপাশি রাখার আগে আরেকটা লাইন যোগ করুন: বছরে ক'বার ফিরবেন, প্রতিবার কত ছুটি লাগবে, আর হঠাৎ ফিরতে হলে টিকিটের টাকা কোথা থেকে আসবে। শেষেরটার জন্য আলাদা একটা জরুরি তহবিল রাখা ভালো, যাতে মাঝরাতের ফোনে অন্তত টাকার চিন্তা করতে না হয়। নতুন অফিসের ছুটির নিয়ম, দূর থেকে কাজ করার সুযোগ আছে কি না, প্রোবেশনের সময় ছুটি পাওয়া যায় কি না—এগুলো এইচআরকে জিজ্ঞেস করা মোটেই অভদ্রতা নয়। এই উত্তরগুলো অনেক সময় সিদ্ধান্তটাকে সহজ করে দেয়।

মাঝামাঝি রাস্তাগুলোও দেখুন

যাওয়া আর না-যাওয়ার মাঝখানে অনেকগুলো রাস্তা থাকে, যেগুলো আমরা আতঙ্কের মধ্যে দেখতে পাই না। জয়েনিং কয়েক সপ্তাহ পিছিয়ে বাবার ফলো-আপটা নিজে সামলে যাওয়া যায়। এক বছর পর নিজের জন্য একটা পর্যালোচনার দিন ঠিক করে যাওয়া যায়, যাতে সিদ্ধান্তটা চিরকালের মনে না হয়। সংস্থার ভারতীয় অফিসে কোনো ভূমিকা আছে কি না জিজ্ঞেস করা যায়। মা-বাবা সুস্থ থাকলে শীতে কয়েক সপ্তাহের জন্য তাঁদের নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথাও ভাবা যায়। কোনো রাস্তাই নিখুঁত নয়, কিন্তু সামনে বিকল্প থাকলে মন দুই চরমের মধ্যে দুলতে থাকে না।

যাওয়াটা ভালোবাসার অভাব নয়, থেকে যাওয়াটাও স্বপ্নের মৃত্যু নয়। তফাত গড়ে দেয় একটা খোলাখুলি কথা আর একটা লেখা পরিকল্পনা।

জন্মছক এখানে কী বলতে পারে, কী পারে না

বৈদিক জ্যোতিষে বিংশোত্তরী দশা শুরু হয় জন্মের সময় চাঁদ কোন নক্ষত্রে ছিল তা দিয়ে, আর মহাদশার ভেতরে অন্তর্দশা বদলায়। অনেকে এমন দোটানার সময় জানতে চান, এখন কোন দশা-অন্তর্দশা চলছে, সেই সময়ের সুরটা দায়িত্বের দিকে ঝোঁকে না নতুন জায়গার দিকে। এটা নিজেকে বোঝার একটা আয়না হতে পারে, এর বেশি নয়। কোনো ছক বলে দিতে পারে না আপনার যাওয়া উচিত কি না, আর মা-বাবার শরীর নিয়ে তারিখ দেওয়া তো একেবারেই নয়; সেটা ডাক্তারের এলাকা। মা-বাবার নিজেদের ছক দেখাতে চাইলে সেটা তাঁদের সম্মতি নিয়েই করবেন। ক্যারিয়ার জ্যোতিষের পাতায় দশা কীভাবে পড়া হয় তার বিস্তারিত আছে, আর নিজের সঠিক জন্মছক দেখতে চাইলে বিনামূল্যে জন্মছক বানানোর টুল ব্যবহার করতে পারেন।

এই সপ্তাহের পাঁচটা কাজ

  • ওপরের তালিকাটা মা-বাবার সঙ্গে বসে ভরাট করুন, ফাঁকা ঘরগুলো দাগিয়ে রাখুন।
  • ভাইবোনের সঙ্গে একটা কল করুন, দায়িত্বের ভাগ লিখে সবাইকে পাঠিয়ে দিন।
  • নতুন অফিসকে জিজ্ঞেস করুন জয়েনিং ক'সপ্তাহ পেছানো যায় কি না, আর ছুটির নিয়ম কী।
  • বাবার ডাক্তারের কাছে জেনে নিন সামনের এক বছরে কী কী পরীক্ষা বা ফলো-আপ লাগতে পারে।
  • উত্তর দেওয়ার আগে অন্তত দুটো রাত ঘুমিয়ে নিন; তাড়াহুড়োর হ্যাঁ বা না, দুটোই পরে ভারী হয়।

সৌমিক যা করল

পরের দিন সকালে সৌমিক এইচআরকে লিখল, বাবার ফলো-আপের পরে জয়েন করা যায় কি না। রবিবার দুপুরে মা-বাবার সঙ্গে বসে সেই পাঁচ ঘরের তালিকাটা বানাল, আর অবাক হয়ে শুনল যে বাবা পাড়ার ক্লাবের পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে আবার সকালে হাঁটতে যাওয়ার কথা ভাবছেন। সিদ্ধান্ত তখনও হয়নি। কিন্তু সেটা আর লুকিয়ে রাখা অপরাধবোধ নয়, তিনজনের একসঙ্গে দেখা একটা প্রশ্ন। নিজের সময়টা নিয়ে আরও ভাবতে চাইলে Astro Ratan-এর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে বাংলায় কথা বলতে পারেন; এটি একটি এআই বৈদিক জ্যোতিষী, আপনার সঠিক জন্মছক থেকে পড়ে আর আগের কথাবার্তা মনে রাখে। তবে শেষ কথাটা আপনার আর আপনার পরিবারের।

Key takeaways

  • প্রশ্নটা 'যাব কি না' দিয়ে শুরু না করে 'আমি না থাকলে কোন কাজগুলো কে করবে' দিয়ে শুরু করুন।
  • প্রয়োজনের তালিকাটা মা-বাবার সঙ্গে বসে বানান; তাঁদের ভয় আর পছন্দ ছাড়া কোনো পরিকল্পনা টেকে না।
  • ভাইবোনের মধ্যে কে টাকা দেবে আর কে সময় দেবে, সেটা মুখে না রেখে লিখে ভাগ করুন।
  • জয়েনিং পিছোনো, এক বছরের পরীক্ষামূলক মেয়াদ বা দেশের অফিসে ভূমিকা—মাঝামাঝি রাস্তাগুলো আগে যাচাই করুন।
  • দশা সময়ের সুর বোঝাতে পারে, কিন্তু যাওয়ার সিদ্ধান্ত বা মা-বাবার শরীর নিয়ে কোনো তারিখ দিতে পারে না।

যে বন্ধু বিদেশের অফার হাতে নিয়েও বাড়িতে বলতে পারছে না, তার জন্য: অপরাধবোধ নয়, একটা দেখভালের নকশা।

আপনার জন্মছকে এখন কোন দশা-অন্তর্দশা চলছে, আর দায়িত্ব আর দূরত্বের এই দোটানায় সেটা কী ইঙ্গিত দেয়—Astro Ratan-কে বাংলায় জিজ্ঞেস করুন।

FAQ

মা-বাবা বলছেন 'চলে যা', কিন্তু গলাটা অন্যরকম শোনাচ্ছে—কী করব?

দুটো জিনিস একসঙ্গে সত্যি হতে পারে: তাঁরা আপনার ভালো চান, আবার একা হয়ে যাওয়ার ভয়ও পাচ্ছেন। সরাসরি জিজ্ঞেস করুন কোন জিনিসটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তা, তারপর সেই নির্দিষ্ট চিন্তার জন্য একটা ব্যবস্থা দেখান। ভয়ের নাম দিলে সেটা ছোট হয়।

বিদেশে যাওয়ার আগে কোন কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা দরকার?

মা-বাবার প্রেসক্রিপশন আর রিপোর্টের ডিজিটাল কপি, স্বাস্থ্যবিমার কাগজ, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নমিনি, জরুরি যোগাযোগের নম্বর—এগুলো এক জায়গায় রাখুন আর ভাইবোনকেও দিন। উইল বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির মতো আইনি বিষয়ে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

দূরে থেকে হঠাৎ অসুস্থতা সামলাব কীভাবে?

আগে থেকেই ঠিক রাখুন কোন হাসপাতালে যাওয়া হবে, কে প্রথমে পৌঁছবেন, আর মা-বাবার ফোনে সেই নম্বরগুলো কোথায় সেভ করা। প্রাণসংশয়ের অবস্থায় 112 নম্বরে ফোন করতে হয়, সেটা মা-বাবাকেও জানিয়ে রাখুন। দেশে ফেরার টিকিটের জন্য আলাদা টাকা রাখলে সেই রাতে অন্তত একটা চিন্তা কম থাকে।

জন্মছক দেখে কি বলা যায় আমি বিদেশে থিতু হব কি না?

ঐতিহ্যগতভাবে কিছু ভাব আর দশাকে দূরত্ব ও নতুন জায়গার সঙ্গে জুড়ে পড়া হয়, কিন্তু কোনো ছক ভিসা, চাকরি বা থিতু হওয়ার নিশ্চয়তা বা তারিখ দিতে পারে না। ভিসার নিয়ম সরকারি সূত্র থেকে জানুন, আর সিদ্ধান্ত নিন আপনার দেখভালের পরিকল্পনা দেখে।