কোর্সের পর কোর্স কিনছি, কাজ কিছুই হচ্ছে না—শেখাটা কি পালানোর রাস্তা হয়ে গেছে?
সেভ করা রিল, অর্ধেক দেখা ভিডিও, না-খোলা পিডিএফ। তথ্য জমানো বন্ধ করে একটা লক্ষ্য, একটা সময়সীমা আর সবার সামনে একটা প্রমাণ দিয়ে শুরু করার উপায়।
Direct answer
অনেক সময় হ্যাঁ। নতুন কোর্স কেনা বা ভিডিও দেখা এগিয়ে যাওয়ার অনুভূতি দেয়, অথচ কেউ আপনার কাজ বিচার করার ঝুঁকি থাকে না। এই চক্র ভাঙতে একটাই কোর্স রাখুন, তার থেকে একটা নির্দিষ্ট জিনিস বানানোর লক্ষ্য ঠিক করুন, একটা তারিখ বাঁধুন, আর শেষে কাজটা অন্তত একজন মানুষকে বা প্রকাশ্যে দেখান। বাকি সব কেনা বা সেভ করা জিনিস আপাতত সরিয়ে রাখুন।
রাত এগারোটা সাতচল্লিশ, শেষ তিন ঘণ্টা
শিলিগুড়ির হাকিমপাড়ায় দোতলার ঘরে অনির্বাণ, ছাব্বিশ, বিছানায় উপুড় হয়ে ফোনে একটা মেল পড়ছে। ডেটা অ্যানালিটিক্সের একটা পুরো প্যাকেজ, অর্ধেক দামে, সেল শেষ হতে আর তিন ঘণ্টা। পাশে খোলা ল্যাপটপে একটা ফোল্ডার, নাম 'শিখব'। ভেতরে ন'টা কোর্স, কোনোটাই চল্লিশ শতাংশের বেশি এগোয়নি। ফোনের সেভ করা রিলের সংখ্যা তিনশো বারো। একটা এক্সেল কোর্সের সার্টিফিকেট আছে, কিন্তু নিজের হাতে বানানো একটা ড্যাশবোর্ডও নেই। পেমেন্টের পাতায় আঙুল রেখে অনির্বাণ ভাবল, এবারেরটা ঠিক শেষ করব। বাক্যটা তার খুব চেনা লাগল। ঠিক এই কথাটাই সে শেষ চারটে কোর্স কেনার সময়ও ভেবেছিল।
কেনার মুহূর্তের স্বস্তিটা কোথা থেকে আসে
নতুন কোর্স কেনার সময় একটা হালকা আনন্দ হয়, যেন জীবনটা আজই একটু গোছানো হল। এই অনুভূতিটা আসল, কিন্তু তার উৎসটা আমরা ভুল বুঝি। আনন্দটা আসে কাজ শুরু হওয়ার জন্য নয়, কাজ শুরু না করেও এগোনোর অনুভূতি পাওয়ার জন্য। শেখার মধ্যে কোনো ঝুঁকি নেই; ভিডিও দেখলে কেউ আপনার ভুল ধরে না। কিন্তু নিজে কিছু বানালে সেটা খারাপ হতে পারে, কেউ দেখে হাসতে পারে, নিজের কাছেই প্রমাণ হয়ে যেতে পারে যে এখনও অনেক কিছু জানি না। তাই মন বারবার নিরাপদ জায়গায় ফিরে যায়: আরেকটু শিখে নিই, তারপর করব। এটা অলসতা নয়। এটা একটা সূক্ষ্ম ভয়, যা শেখার পোশাক পরে থাকে।
নিজেকে তিনটে প্রশ্ন
- গত ছ'মাসে যা শিখেছি, তা দিয়ে নিজে হাতে কী বানিয়েছি, যেটা কাউকে দেখানো যায়?
- কোর্সের কোন অংশে এসে সাধারণত থেমে যাই: তত্ত্বের সময়, না যখন নিজে অনুশীলন করতে হয়?
- আজ যদি আর একটাও নতুন ভিডিও না দেখি, তাহলে কী দিয়ে কাজ শুরু করতে পারি?
একটা লক্ষ্য: কোর্স শেষ নয়, একটা জিনিস বানানো
বেশিরভাগ মানুষ লক্ষ্য রাখেন কোর্সটা শেষ করা। সমস্যা হল, কোর্স শেষ হওয়ার পরেও হাতে কিছু থাকে না, শুধু একটা সার্টিফিকেট। বরং লক্ষ্য ঠিক করুন একটা নির্দিষ্ট জিনিস বানানোর, যেটা কোর্সের জ্ঞান ছাড়া বানানো যেত না। অনির্বাণের ক্ষেত্রে সেটা হতে পারে: বাবার হার্ডওয়্যার দোকানের গত এক বছরের বিক্রির খাতা থেকে একটা সহজ ড্যাশবোর্ড, যেখানে বোঝা যাবে কোন মাসে কোন জিনিস বেশি বিকোয়। জিনিসটা যত নির্দিষ্ট আর যত আপনার নিজের জীবনের কাছাকাছি, শেষ করার সম্ভাবনা তত বেশি। আর কোর্সের যে অংশ এই কাজে লাগবে না, সেটা আপাতত বাদ দিলেও চলে।
একটা সময়সীমা, আর বাকিগুলোর জন্য একটা ফোল্ডার
খোলা সময়সীমা মানে কোনো সময়সীমা নেই। একুশ দিন ধরুন, ক্যালেন্ডারে শেষ তারিখটা লিখে ফেলুন, আর সপ্তাহে কোন কোন দিন কতক্ষণ কাজ করবেন সেটাও। তারপর একটা ছোট কিন্তু কঠিন কাজ: বাকি আটটা কোর্স, সেভ করা রিল, বুকমার্ক করা লেখা সব একটা ফোল্ডারে সরিয়ে দিন, নাম দিন 'পরে দেখব'। মুছে ফেলার দরকার নেই, তাতে মন বিদ্রোহ করে। শুধু চোখের সামনে থেকে সরান। আর এই একুশ দিন নতুন কোনো কোর্স কিনবেন না, সেল যতই লোভনীয় হোক। নিজের কাছে একটা নিয়ম রাখুন: নতুন কিছু কেনার আগে আগেরটা দিয়ে কিছু একটা বানিয়ে দেখাতে হবে।
একুশ দিন, সপ্তাহে সপ্তাহে
- প্রথম সপ্তাহ: কাজের একটা খুব খারাপ, অসম্পূর্ণ প্রথম খসড়া বানান। সুন্দর হওয়ার দরকার নেই, শুধু শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা কাঠামো।
- দ্বিতীয় সপ্তাহ: যেখানে আটকাবেন, শুধু সেই নির্দিষ্ট জিনিসটা শিখতে কোর্সের সেই অংশটুকু দেখুন, পুরো মডিউল নয়।
- তৃতীয় সপ্তাহ: কাজটা গুছিয়ে একজন মানুষকে দেখান, মতামত নিন, আর একটা ছোট অনুচ্ছেদে লিখুন কী শিখলেন আর কী এখনও পারেন না।
সবার সামনে একটা প্রমাণ
শেষ ধাপটাই সবচেয়ে ভয়ের, আর সবচেয়ে জরুরি। কাজটা অন্তত একজন এমন মানুষকে দেখান যিনি সেই বিষয়টা বোঝেন: একজন সিনিয়র, পুরনো শিক্ষক, বা অফিসের কোনো সহকর্মী। আরেকটু সাহস থাকলে কাজের ছবি আর ছোট বিবরণ নিজের পেশাদার প্রোফাইলে বা কোনো অনলাইন পোর্টফোলিওতে দিন। উদ্দেশ্য প্রশংসা পাওয়া নয়, নিজেকে প্রমাণ করা যে আমি শুধু শিখি না, বানাতেও পারি। প্রথম কাজটা নিখুঁত হবে না, হওয়ার কথাও নয়। কিন্তু একটা অসম্পূর্ণ দেখানো কাজ দশটা নিখুঁত না-বানানো পরিকল্পনার চেয়ে বেশি দামী। আর যদি পরিবারের ব্যবসা আর নিজের পথের মধ্যে দোটানা থেকে এই অস্থিরতা আসে, পারিবারিক ব্যবসা না নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে আমাদের লেখাটা পড়ে দেখতে পারেন।
যে কাজ দেখানো যায় না, সেটা এখনও শেখা হয়নি; শুধু দেখা হয়েছে।
গ্রহ কি আপনাকে আটকে রেখেছে?
এমন সময়ে কেউ কেউ ভাবেন, হয়তো আমার ছকেই গোলমাল, হয়তো বুধ দুর্বল বা শনির দশা চলছে বলে কিছু শেষ করতে পারি না। বৈদিক জ্যোতিষে বুধকে ঐতিহ্যগতভাবে বুদ্ধি আর শেখার সঙ্গে, শনিকে ধৈর্য আর নিয়মানুবর্তিতার সঙ্গে জুড়ে পড়া হয়, আর বিংশোত্তরী দশার কোন পর্ব চলছে তা দেখে অনেকে নিজের সময়টাকে বোঝার চেষ্টা করেন। সেটা একটা আয়না হতে পারে। কিন্তু কোনো গ্রহ আপনার হয়ে ফোল্ডারটা সরিয়ে দেবে না, আবার কোনো দশা আপনাকে একুশ দিনের একটা ছোট কাজ করা থেকে আটকাতেও পারে না। ক্যারিয়ার জ্যোতিষের পাতায় দশা পড়ার পদ্ধতি বিস্তারিত আছে।
সেলটা শেষ হয়ে গেল
সেই রাতে অনির্বাণ পেমেন্ট করেনি। রাত পৌনে তিনটেয় সেল শেষ হয়ে গেল, আর পৃথিবী যেমন ছিল তেমনই রইল। পরের দিন সে 'শিখব' ফোল্ডারটার নাম বদলে 'পরে দেখব' করল, শুধু একটা কোর্স বাইরে রাখল, আর বাবার কাছ থেকে দোকানের পুরনো বিক্রির খাতাটা চেয়ে নিল। প্রথম খসড়াটা ভয়ানক দেখতে হয়েছিল। কিন্তু সেটা তার নিজের হাতে বানানো প্রথম জিনিস। নিজের চলতি দশা আর শেখার ধরন নিয়ে প্রশ্ন থাকলে Astro Ratan-কে হোয়াটসঅ্যাপে বাংলায় লিখতে পারেন; এটি একটি এআই বৈদিক জ্যোতিষী, আপনার সঠিক জন্মছক ধরে উত্তর দেয় আর পরের বার আগের কথা মনে রাখে।
Key takeaways
- কোর্স কেনার মুহূর্তে যে স্বস্তি আসে, সেটা কাজ শুরুর নয়, কাজ পিছিয়ে দেওয়ার স্বস্তি।
- একসঙ্গে একটাই কোর্স: বাকিগুলো মুছবেন না, আলাদা ফোল্ডারে সরিয়ে রাখুন।
- লক্ষ্য হবে একটা জিনিস বানানো, কোর্স শেষ করা নয়।
- একুশ দিনের শেষে কাজটা অন্তত একজন মানুষকে দেখান; দেখানোর ভয়টাই আসল বাধা।
- কোনো গ্রহ আপনাকে অলস বানায় না; দশা বড়জোর সময়ের সুর বোঝায়, কাজ করতে হয় নিজেকেই।
যে বন্ধুর ল্যাপটপে 'শিখব' নামের একটা ফোল্ডার ভর্তি অসমাপ্ত কোর্স, তাকে পাঠান: আরেকটা কোর্স নয়, একুশ দিনে একটা কাজ।
শুরু করে থেমে যাওয়ার এই চক্রটা নিজের জন্মছক আর চলতি দশার আলোয় বুঝতে চাইলে Astro Ratan-কে বাংলায় জিজ্ঞেস করুন।
