পরিবারের দেখাশোনার জন্য ক্যারিয়ারে ফাঁক—আবার ফেরা কি এখনও সম্ভব?
সিভির ফাঁকা বছরগুলো আসলে ফাঁকা নয়। সেই বছরের দায়িত্বকে কাজের ভাষায় লিখে, ধাপে ধাপে ফেরার একটা পরিকল্পনা।
Direct answer
হ্যাঁ, সম্ভব, তবে একলাফে নয়, ধাপে ধাপে। দেখাশোনার বছরগুলোয় আপনি যা সামলেছেন—ওষুধ আর ডাক্তারের সময়সূচি, হাসপাতালের বিল আর বিমার কাগজ, আয়া বা নার্সের তদারকি, সংকটে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত—সেগুলো কাজের দক্ষতা। সিভিতে ফাঁকটা লুকোবেন না, এক লাইনে সৎভাবে লিখুন। তারপর পুরনো দক্ষতা ঝালিয়ে, একটা ছোট প্রকল্প বা চুক্তিভিত্তিক কাজ দিয়ে শুরু করে নিয়মিত চাকরির দিকে এগোন।
একটা ড্রপডাউনে যে উত্তর নেই
শিবপুরের বাড়িতে বাবার ঘরের পাশের ছোট টেবিলে ল্যাপটপ খুলে বসেছেন নন্দিনী, একচল্লিশ। চার বছর আগে বাবার স্ট্রোক হয়েছিল; তার আগে ডালহৌসির একটা লজিস্টিক্স সংস্থায় অ্যাকাউন্টসে কাজ করতেন। এখন দাদা বেঙ্গালুরু থেকে বদলি নিয়ে ফিরেছেন, দিনের বেলার জন্য একজন আয়াও ঠিক হয়েছে। প্রথমবার একটা চাকরির পোর্টালে আবেদন করতে গিয়ে নন্দিনী আটকে গেলেন একটা প্রশ্নে: কাজে বিরতির কারণ। ড্রপডাউনে লেখা উচ্চশিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানান্তর, অন্যান্য। বাবার পাশে কাটানো চারটে বছর, রাত জেগে প্রেশার মাপা, ফিজিওথেরাপির সময় মেলানো, সেগুলো কোথাও নেই। তিনি অন্যান্য বেছে নিলেন, আর ল্যাপটপটা বন্ধ করে দিলেন।
ফাঁকা বছর, না ভরা বছর?
নন্দিনীর ভয়টা খুব চেনা: যিনি সিভি পড়বেন, তিনি শুধু দেখবেন চার বছর কাজ নেই। অথচ সেই চার বছর ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে দায়িত্বপূর্ণ সময়। সমস্যা বছরগুলোয় নয়, সেগুলোর বর্ণনার ভাষায়। আমরা বাড়ির দেখাশোনাকে কাজ বলে গুনতে শিখিনি, তাই নিজেও সেটাকে বাদ দিয়ে ফেলি। প্রথম কাজ তাই নিজের কাছে স্বীকার করা: এই সময়ে আমি কাজ থেকে দূরে ছিলাম, দায়িত্ব থেকে নয়। এই কথাটা বিশ্বাস না করলে সাক্ষাৎকারে কেউ তা বিশ্বাস করবেন না।
দেখাশোনার কাজকে কাজের ভাষায় লিখুন
একটা খাতায় এক সপ্তাহ ধরে লিখুন দেখাশোনার সময় আসলে কী কী করতেন। তারপর প্রতিটার পাশে লিখুন সেটা অফিসের কোন দক্ষতার সঙ্গে মেলে। সব লাইন সিভিতে যাবে না, কিন্তু সাক্ষাৎকারে উদাহরণ দেওয়ার জন্য এই তালিকাটা সোনার খনি।
| বাড়িতে যা করতেন | কাজের জায়গায় যে দক্ষতা |
|---|---|
| ছ'রকম ওষুধের সময়, ডাক্তার আর ফিজিওথেরাপির তারিখ মেলানো | সময়সূচি পরিকল্পনা, একাধিক কাজ একসঙ্গে সামলানো |
| হাসপাতালের বিল মিলিয়ে দেখা, বিমার দাবির কাগজ জমা আর তার পিছনে লেগে থাকা | নথি সামলানো, হিসাব মেলানো, আলোচনা করে সমস্যা মেটানো |
| আয়া বা নার্সের কাজ ভাগ করে দেওয়া, তদারকি করা | দল পরিচালনা, স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া |
| মাঝরাতে হঠাৎ অবস্থার অবনতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া | চাপের মধ্যে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত |
| সংসারের খরচ আর চিকিৎসার খরচ একসঙ্গে সামলানো | বাজেট তৈরি ও খরচ নিয়ন্ত্রণ |
সিভিতে ফাঁকটা এক লাইনে
ফাঁকটা লুকোনোর চেষ্টা করবেন না; তারিখ মেলালেই বোঝা যায়, আর তখন প্রশ্নটা হয় সততার। আবার কৈফিয়তের লম্বা অনুচ্ছেদও লিখবেন না। সিভিতে সেই সময়ের জায়গায় একটা লাইন রাখুন, যেমন: পরিবারের একজন সদস্যের দীর্ঘ অসুস্থতায় পূর্ণ সময়ের দেখাশোনা, চিকিৎসা, বিমা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব। অসুখের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়ার দরকার নেই; পরিবারের সেই মানুষটার গোপনীয়তাও আপনার দায়িত্ব। এই সময়ে ছোটখাটো কিছু শিখে থাকলে, যেমন নতুন কোনো হিসাবের সফটওয়্যার, সেটাও ওখানে যোগ করুন।
আমি কাজ থেকে দূরে ছিলাম, দায়িত্ব থেকে নয়। সেই দায়িত্ব আমাকে যা শিখিয়েছে, সেটা নিয়েই ফিরছি।
ফেরার তিনটে পর্ব
- প্রথম মাস, ঝালানো: পুরনো কাজের ক্ষেত্রে কী বদলেছে জেনে নিন, দরকারি সফটওয়্যারে হাত পাকান, পুরনো সহকর্মী আর বসদের মধ্যে অন্তত পাঁচজনকে শুধু খোঁজ নিতে ফোন করুন।
- দ্বিতীয় মাস, ছোট প্রমাণ: একটা চুক্তিভিত্তিক বা আংশিক সময়ের কাজ নিন, চেনা কোনো ছোট ব্যবসার হিসাব গুছিয়ে দিন, বা সংস্থাগুলোর কাজে-ফেরা কর্মসূচির খোঁজ করুন।
- তৃতীয় মাস, নিয়মিত আবেদন: বাছাই করা পনেরো-কুড়িটা জায়গায় আবেদন করুন, প্রতিটার জন্য সিভির প্রথম তিন লাইন বদলে নিন, আর প্রতি সপ্তাহে কী শিখলেন লিখে রাখুন।
সাক্ষাৎকারে প্রশ্নটা এলে
প্রায় প্রতিটা সাক্ষাৎকারে কেউ না কেউ জিজ্ঞেস করবেন, এতদিন কী করছিলেন। উত্তরটা আগে থেকে জোরে জোরে কয়েকবার বলে অভ্যাস করুন, যাতে গলা কাঁপে না। তিনটে অংশে ভাবুন: কী হয়েছিল, এক বাক্যে; সেই সময়ে কী সামলেছেন, একটা নির্দিষ্ট উদাহরণ দিয়ে; আর এখন কেন আপনি পুরো মন দিয়ে ফিরতে প্রস্তুত, অর্থাৎ বাড়িতে কী ব্যবস্থা হয়েছে। শেষ অংশটা জরুরি, কারণ নিয়োগকর্তার আসল দুশ্চিন্তা থাকে সেখানেই। কেউ যদি ব্যক্তিগত বা অপমানজনক প্রশ্ন করেন, ভদ্রভাবে কথা কাজের দিকে ফেরানোর অধিকার আপনার আছে।
বাড়ির ব্যবস্থাটা লিখে ফেলুন
নতুন চাকরির প্রথম কয়েক মাসে যদি বাড়িতে একটা সংকট আসে আর সবাই ধরে নেন আপনিই ছুটি নেবেন, তাহলে ফেরাটা খুব তাড়াতাড়ি টলে যায়। তাই কাজ শুরুর আগে দাদা বা অন্য আত্মীয়দের সঙ্গে বসে লিখে ফেলুন কোন দিন কে দায়িত্বে, আয়া না এলে বিকল্প কে, হাসপাতালে যেতে হলে প্রথমে কে যাবেন। দূরে থাকা ভাইবোনের সঙ্গে এই ভাগাভাগির কথা আমরা বিদেশে চাকরি আর বয়স্ক মা-বাবাকে নিয়ে লেখায় বিস্তারিত বলেছি। আর একটা কথা: বছরের পর বছর দেখাশোনার পরে ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ বা মন ভার হয়ে থাকা খুব স্বাভাবিক। কথা বলার দরকার মনে হলে Tele-MANAS-এর 14416 নম্বরে বিনা খরচে বাংলায় কথা বলা যায়।
সময়ের পালাবদল আর জন্মছক
অনেকে এমন মোড়ে এসে জানতে চান, এখন কি নতুন করে শুরু করার সময়। বৈদিক জ্যোতিষে বিংশোত্তরী দশার মহাদশা আর অন্তর্দশার বদলকে জীবনের পর্ব বদলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়, আর শনিকে ঐতিহ্যগতভাবে দায়িত্ব, সেবা আর ধৈর্যের সঙ্গে জুড়ে পড়া হয়। নিজের ছকে কোন দশা চলছে তা জানলে এই সময়টাকে একটা অর্থ দিয়ে দেখা সহজ হতে পারে। কিন্তু কোনো ছক বলতে পারে না কোন মাসে চাকরি হবে, আর সেই অপেক্ষায় আবেদন থামিয়ে রাখা ঠিক নয়। ক্যারিয়ার জ্যোতিষের পাতায় দশা পড়ার পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আছে।
নন্দিনীর দ্বিতীয় চেষ্টা
এক সপ্তাহ পরে নন্দিনী আবার ল্যাপটপ খুললেন, এবার পাশে সেই খাতাটা, যাতে চার বছরের কাজের তালিকা আর তার পাশে অফিসের দক্ষতা লেখা। সিভিতে ফাঁকের জায়গায় এক লাইনের সৎ বর্ণনা বসালেন, আর আবেদনের আগে পুরনো বস সুদীপদাকে ফোন করলেন। তিনি একটা ছোট সংস্থার কথা বললেন, যাদের তিন মাসের জন্য হিসাব মেলানোর লোক দরকার। বড় চাকরি নয়, কিন্তু শুরু। নিজের জন্মছকের চলতি দশা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে Astro Ratan-কে হোয়াটসঅ্যাপে বাংলায় লিখতে পারেন; এটি একটি এআই বৈদিক জ্যোতিষী, যা আপনার সঠিক ছক ধরে উত্তর দেয় আর পরের বার কথা বললে আগের প্রসঙ্গ মনে রাখে।
Key takeaways
- দেখাশোনার বছরগুলোয় করা কাজের একটা তালিকা বানান, তারপর প্রতিটাকে কাজের জায়গার ভাষায় লিখুন।
- সিভিতে ফাঁকের জন্য এক লাইনের সৎ ব্যাখ্যাই যথেষ্ট; লম্বা কৈফিয়ত বা লুকোনো, দুটোই ক্ষতি করে।
- ফেরা ভাগ করুন তিন পর্বে: দক্ষতা ঝালানো, ছোট কাজ দিয়ে প্রমাণ, তারপর নিয়মিত চাকরির আবেদন।
- বাড়ির দেখাশোনার ব্যবস্থা লিখিত না হলে নতুন চাকরি প্রথম সংকটেই টলে যায়।
- দশা সময়ের পালাবদল বোঝাতে পারে, কিন্তু কবে চাকরি হবে তার তারিখ কোনো ছক দেয় না।
যিনি মা-বাবা বা সন্তানের দেখাশোনায় বছরের পর বছর দিয়েছেন আর এখন সিভি খুলতে ভয় পাচ্ছেন, তাঁকে পাঠান: ফাঁকা বছরগুলো আসলে ফাঁকা ছিল না।
দেখাশোনার বছর পেরিয়ে কাজে ফেরার এই মোড়ে আপনার জন্মছকে কোন দশা চলছে, জানতে Astro Ratan-কে বাংলায় জিজ্ঞেস করুন।
