কয়েক মাস পরে পুরনো মানুষটা ফিরে এসেছে—মনের কথা শুনবেন, না অতীতের?
একটা মেসেজে পুরনো সব অনুভূতি জেগে উঠতেই পারে; তবু সিদ্ধান্তের আগে দেখে নিন সম্পর্কটা আসলে কেন ভেঙেছিল, সত্যিই কিছু বদলেছে কি না, আর আপনি এখন কী চান।
Direct answer
প্রথম মেসেজের উত্তর তাড়াহুড়ো করে দেবেন না। আগে নিজের জন্য লিখে ফেলুন সম্পর্কটা আসলে কেন ভেঙেছিল, শেষ ঝগড়াটা নয়, বারবার ফিরে আসা সমস্যাটা। তারপর দেখুন সেই জায়গায় কাজে কিছু বদলেছে কি না, শুধু কথায় নয়। শেষে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আপনি এই মানুষটাকে চান, না একাকীত্ব থেকে মুক্তি। কথা বলতে চাইলে দিনের আলোয়, ধীরে, নিজের শর্তে।
রবীন্দ্র সরোবরের রেলিং, সন্ধে সাতটা
রবিবার সন্ধেয় টালিগঞ্জের দীপ্তেন্দু, উনত্রিশ, রবীন্দ্র সরোবরের পাড়ে হাঁটছিল। সাত মাস আগে মোহনা একটা লম্বা মেসেজে সম্পর্কটা শেষ করেছিল: আমি আর পারছি না, আমাকে একটু জায়গা দে। প্রথম তিন মাস দীপ্তেন্দু ঠিক করে ঘুমোতে পারেনি। তারপর আস্তে আস্তে অফিসের পরে ফুটবল, বন্ধুদের সঙ্গে শনিবারের আড্ডা, আর গত সপ্তাহেই সে অবশেষে দুজনের বানানো গানের তালিকাটা মুছে দিয়েছে। ঠিক তখনই পকেটে ফোনটা কাঁপল। মোহনা। কেমন আছিস? অনেকদিন কথা হয়নি। আজ হঠাৎ তোর কথা খুব মনে পড়ল। দীপ্তেন্দু রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে পড়ল। লেকের জলে আলো কাঁপছে, আর তার বুকের ভেতর সাত মাসের সব গোছানো জিনিস এক মুহূর্তে এলোমেলো।
প্রথম এক ঘণ্টা কিছু করবেন না
এমন মেসেজ এলে শরীর আগে সাড়া দেয়, মাথা পরে। বুক ধড়ফড়, হাত কাঁপা, একসঙ্গে আনন্দ আর রাগ, আর আঙুল উত্তর লিখতে চায় এখনই। এই মুহূর্তের সিদ্ধান্ত সাধারণত মুহূর্তটারই হয়, আপনার নয়। মনে রাখুন, সাত মাস পরে আসা একটা মেসেজের উত্তর সাত মিনিটে দিতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। ফোনটা পকেটে রাখুন, হাঁটাটা শেষ করুন, রাতে ঘুমোন। কাল সকালেও মেসেজটা সেখানেই থাকবে। আর ততক্ষণে আপনি নিজের কথাটা একটু শুনে নিতে পারবেন।
ও কেন ফিরল, সেটা এক মেসেজে জানা যায় না
মানুষ নানা কারণে পুরনো সম্পর্কে ফিরে আসে। কেউ সত্যিই সময় নিয়ে ভেবেছে, নিজের ভুল বুঝেছে। কেউ একটা খারাপ সপ্তাহ কাটাচ্ছে, একা লাগছে। কেউ অভ্যাসের টানে, কেউ শুধু দেখতে চায় আপনি এখনও অপেক্ষা করছেন কি না। কেউ নতুন সম্পর্ক ভাঙার পরে পুরনো নিরাপদ ঠিকানায় ফেরে। একটা 'তোর কথা মনে পড়ল' থেকে এর কোনটা সত্যি, বোঝা অসম্ভব। তাই ওর মনের ভেতরটা আন্দাজ করার চেষ্টা ছেড়ে দিন। যেটা জানা সম্ভব, সেখান থেকে শুরু করুন: আপনাদের সম্পর্কটা কোথায় ভেঙেছিল।
ভাঙনের আসল কারণটা লিখে ফেলুন
শেষ ঝগড়াটা প্রায়ই আসল কারণ নয়, শুধু শেষ খড়কুটো। একটা খাতায় লিখুন, সম্পর্কের পুরো সময় জুড়ে কোন সমস্যাটা বারবার ফিরে আসত। দীপ্তেন্দু লিখতে বসে দেখল, দু'বছরে মোহনা কখনও তাকে নিজের বাড়ির কারও সঙ্গে আলাপ করায়নি, শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বাতিল হত, আর প্রতিবার মানিয়ে নিত সে-ই। আবার নিজের দিকটাও লিখল: সে রাগ চেপে রাখত, সপ্তাহের পর সপ্তাহ, তারপর একদিন ফেটে পড়ত। দুজনের ভাগই লিখুন, সৎভাবে। এই পাতাটাই পরে আপনার কষ্টিপাথর হবে।
বদল হয়েছে কি না, কীভাবে বুঝবেন
ফিরে আসা মানুষ প্রায়ই বলেন, আমি অনেক বদলে গেছি। কথাটা সত্যি হতেও পারে। কিন্তু বদলের কিছু চিহ্ন থাকে, যেগুলো সময় নিয়ে দেখা যায়।
- আপনি মনে করিয়ে দেওয়ার আগেই ও নিজে থেকে বলছে কোথায় ভুল হয়েছিল, আর নিজের ভাগটা স্পষ্ট করে নিচ্ছে, শুধু 'দুজনেরই দোষ ছিল' বলে থামছে না।
- যে সমস্যায় সম্পর্কটা ভেঙেছিল, সেখানে বাস্তবে কিছু বদলেছে, যেমন পরিবারের সঙ্গে কথা বলা, কাউন্সেলিং নেওয়া বা জীবনের পরিস্থিতির বদল।
- আপনি ধীরে চলতে চাইলে ও বিরক্ত না হয়ে সেটা মেনে নিচ্ছে।
- কয়েক সপ্তাহ ধরে কথা আর কাজ মিলছে; শুধু রাতের মেসেজে উষ্ণতা আর দিনের আলোয় উধাও, এমন হচ্ছে না।
আপনি এখন আসলে কী চান
সাত মাসে শুধু ও নয়, আপনিও বদলেছেন। নতুন রুটিন, নতুন বন্ধু, নিজের সঙ্গে কাটানো অনেকটা সময়। তাই প্রশ্নটা শুধু 'ও কি বদলেছে' নয়, 'আমি এখন কী চাই' সেটাও। নিজেকে একটা সোজা প্রশ্ন করুন: ও আজ মেসেজ না করলে কি আমি নিজে থেকে ওকে খুঁজতাম? যদি উত্তর হয়, না, আমি তো ভালোই ছিলাম, তাহলে হয়তো আপনার মন ওকে নয়, পুরনো পরিচিত উষ্ণতাটাকে মিস করছে। সেই অভাবটা সত্যি, কিন্তু তার উত্তর সবসময় পুরনো সম্পর্ক নয়।
কথা বলতে চাইলে, ধীরে এবং দিনের আলোয়
যদি কথা বলতে চান, রাত বারোটার মেসেজের আবেগে নয়, দিনের বেলায়, কোনো প্রকাশ্য জায়গায়, এক কাপ চায়ের টেবিলে বলুন। উত্তরটা এমন হতে পারে: ভালো আছি। তুই হঠাৎ কেন লিখলি, সেটা জানতে ইচ্ছে করছে। দেখা হলে সরাসরি বলুন: আগের বার যেটা আমাকে সবচেয়ে কষ্ট দিয়েছিল, সেটা এই। এ নিয়ে তুই এখন কী ভাবছিস? তারপর চুপ করে শুনুন। উত্তর যদি ঘুরে যায়, অথবা 'ওসব পুরনো কথা থাক' হয়, সেটাও একটা উত্তর। প্রথম দেখাতেই সম্পর্ক আবার শুরু করার কোনো তাড়া নেই।
ফিরে আসা মানুষটা হয়তো বদলেছে, হয়তো নয়। কিন্তু আপনি যে এই সাত মাসে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছেন, সেটা সত্যি।
না বলাও একটা পূর্ণ উত্তর
সব কিছু দেখে মনে হতে পারে, না, আর নয়। তখন সংক্ষেপে, সম্মান রেখে বলুন: তুই মনে রেখেছিস, ভালো লাগল। কিন্তু আমি আর পুরনো জায়গায় ফিরতে চাই না। ভালো থাকিস। লম্বা ব্যাখ্যা দেওয়ার দায় নেই। আর যদি সেই সম্পর্কে ভয়, অপমান, নিয়ন্ত্রণ বা কোনোরকম হিংসা থেকে থাকে, তাহলে কোনো উত্তর না দেওয়াও ঠিক, দরকারে নম্বরটা আটকে দিন। নিজের নিরাপত্তা যে কোনো পুরনো টানের চেয়ে বড়।
আবার চেষ্টা করবেন ঠিক করলে
যদি মনে হয় আরেকবার চেষ্টা করবেন, তাহলে চোখ খোলা রেখে করুন। দুজনে মিলে বলে নিন কোন পুরনো সমস্যাটা এবার আলাদা করে সামলাবেন, আর তিন মাস পরে একদিন বসে সৎভাবে দেখবেন সেটা হচ্ছে কি না। নিজের বন্ধুদের, নিজের রুটিনকে সম্পর্কের জন্য আবার ছেঁটে ফেলবেন না। আর যদি সেই সময়ে পুরনো ধাঁচটা ফিরে আসে, সেটাকে 'এবারও আমারই দোষ' না ভেবে তথ্য হিসেবে দেখুন। কখনও কখনও দ্বিতীয় চেষ্টা সম্পর্কটাকে গভীর করে, আবার কখনও কখনও পরিষ্কার করে দেয় যে বিদায়টা ঠিকই ছিল। দুটো ফলই আপনাকে এগিয়ে দেয়।
পুরনো ক্ষত আবার খুলে গেলে
অনেকের ক্ষেত্রে এমন একটা মেসেজ সাত মাসের সারিয়ে তোলাকে এক রাতে পিছিয়ে দেয়: আবার ঘুম না আসা, খেতে না পারা, কাজে মন না বসা। সেটা হলে একজন কাছের বন্ধুকে ডাকুন, একা বসে পুরনো চ্যাট পড়বেন না। মন যদি খুব অন্ধকারে চলে যায়, Tele-MANAS-এ 14416 নম্বরে ফোন করুন; দিনরাত খোলা, খরচ নেই, বাংলায় কথা বলা যায়। আর যদি পুরনো সঙ্গী ভয় দেখায় বা পিছু নেয়, দেরি না করে 112-এ জানান।
ছকে কি লেখা আছে ও ফিরবে কি না
এই সময় অনেকে জানতে চান, জন্মছক বলছে কি না যে এবার সম্পর্কটা টিকবে। কোনো ছকে এমন কথা লেখা থাকে না। শুক্রের কোনো গোচর বা কোনো দশা কাউকে ফিরিয়ে আনে না, আর সম্পর্ক টিকবে কি না তা ঠিক করে দুজন মানুষের রোজকার আচরণ। অন্যের ছক তাঁর সম্মতি ছাড়া ঘাঁটাও ঠিক নয়, প্রাক্তনের তো নয়ই। নিজের ছক দেখে কেউ কেউ নিজের সম্পর্কের ধাঁচ নিয়ে একটু ভাবতে পারেন, এইটুকু। প্রেম ও সম্পর্ক নিয়ে জ্যোতিষের পাতায় সেই ভাবনার জায়গাটা আছে। আর যদি মেসেজ আসে, উষ্ণ কথা আসে, অথচ দেখা বা স্পষ্ট কথা কিছুতেই আসে না, তাহলে মিষ্টি মেসেজ আর ঝুলিয়ে রাখা নিয়ে আমাদের লেখাটা একবার পড়ে নিন।
পরের শনিবার, লেক মার্কেটের চায়ের দোকান
দীপ্তেন্দু উত্তর দিয়েছিল পরের দিন সকাল ন'টায়। শনিবার বিকেলে লেক মার্কেটের পাশে একটা চায়ের দোকানে দেখা হল। মোহনা বলল, খুব মিস করেছে। দীপ্তেন্দু তার খাতার কথাটা তুলল, বাড়ির লোকের সঙ্গে আলাপ না করানোর কথা। মোহনা একটু চুপ করে থেকে বলল, ওসব পরে দেখা যাবে, আগে আমরা তো ঠিক হই। দীপ্তেন্দু সাদার্ন অ্যাভিনিউ ধরে একা হেঁটে ফিরল। কষ্ট হচ্ছিল, কিন্তু সাত মাস আগের মতো দিশেহারা লাগছিল না। রাতে সে লিখল: তোর সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগল। কিন্তু আমি পুরনো জায়গায় ফিরতে পারব না। তারপর ফোনটা উল্টে রেখে ঘুমিয়ে পড়ল।
Key takeaways
- প্রথম মেসেজের উত্তর দেওয়ার কোনো তাড়া নেই; শরীরের ঝড়টা থামলে তবেই ভাবুন।
- ভাঙনের আসল কারণ বলতে শেষ ঝগড়া নয়, বারবার ফিরে আসা সমস্যাটা বোঝায়; সেটা আগে কাগজে লিখুন।
- বদলের প্রমাণ হল নিজের ভাগের দায় স্বীকার আর কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজে তার ছাপ, এক রাতের আবেগী কথা নয়।
- নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ও না ডাকলে কি আপনি নিজে থেকে ওকে খুঁজতেন; উত্তরটা অনেক কিছু পরিষ্কার করে।
- না বলাও একটা পূর্ণ উত্তর; আর সম্পর্কে ভয় বা নিয়ন্ত্রণ থেকে থাকলে আগে নিজের নিরাপত্তা।
যে বন্ধুর ফোনে মাসের পর মাস পরে পুরনো মানুষটার নাম ভেসে উঠেছে আর সে উত্তর লিখে-মুছে যাচ্ছে, তাকে পাঠান: তাড়াহুড়ো না করে কী কী মিলিয়ে দেখা দরকার, সেই কথা।
পুরনো সম্পর্কে ফিরবেন কি না, সেই দোটানায় নিজের জন্মছক ধরে নিজের সম্পর্কের ধাঁচটা একটু বুঝতে চাইলে বাংলায় Astro Ratan-কে লিখুন।
