আধুনিক কথ্য বাংলা
Extended-family boundariesআধুনিক কথ্য বাংলা

শ্বশুরবাড়িকে সম্মান করেও নিজেদের সীমা রাখা যায়: কে বলবেন, কীভাবে বলবেন

ছোট্ট একটা অনুরোধ বারবার মেনে নিতে নিতে ক্ষোভটা যখন জমে স্বামী-স্ত্রীর মাঝখানে, তখন দরকার দু'জনের এক কথা, নরম অথচ পরিষ্কার ভাষা, আর কোথায় থামতে হয় তার বোধ।

2026-11-01 7 min · 1,599 words

Direct answer

শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সীমা টানার প্রথম ধাপটা শ্বশুরবাড়িতে নয়, নিজেদের ঘরে। আগে স্বামী-স্ত্রী মিলে ঠিক করুন ঠিক কোন জিনিসটা বদলাতে চান আর কেন। তারপর নিয়ম হোক, যাঁর মা-বাবা, কথাটা তিনিই বলবেন: আগে ভালোবাসার কথা, তারপর পরিষ্কার অনুরোধ, শেষে একটা বিকল্প। একবারে সব বদলাবে না; নরম থাকুন, কিন্তু একই কথা বারবার একইভাবে বলুন। অপমান, টাকার চাপ বা গায়ে হাত তোলা থাকলে সেটা আর মানিয়ে নেওয়ার বিষয় নয়।

রবিবার সকাল সাতটা চল্লিশে চাবির শব্দ

গড়িয়ার একটা দোতলা ফ্ল্যাটে রবিবার সকাল সাতটা চল্লিশ। কোয়েল, তেত্রিশ, একটা স্থাপত্য সংস্থায় কাজ করেন, সপ্তাহে ছ'দিন অফিস; এই একটা সকালই তিনি একটু দেরি করে ওঠেন। ঘুমের মধ্যেই শুনলেন দরজায় চাবি ঘোরার শব্দ। নাকতলা থেকে শাশুড়ি এসেছেন, হাতে স্টিলের কৌটোয় আলুপোস্ত। দু'বছর আগে পাঁচ বছরের পুপুর যখন খুব জ্বর, তখন তিনি একটা বাড়তি চাবি চেয়ে নিয়েছিলেন, বলেছিলেন দরকারে লাগবে। তারপর থেকে দরকারটা প্রায় প্রতি রবিবারের। রান্নাঘর থেকে ভেসে এল মশলার কৌটো সরানোর আওয়াজ, তারপর সেই চেনা গলা: বউমা এখনও ওঠেনি? কোয়েল চাদরটা মাথা পর্যন্ত টেনে নিলেন। পাশে সায়ন, পঁয়ত্রিশ, আধো ঘুমে বললেন, মা একটু এসেছেন, এতে কী হল। শাশুড়ি চলে যাওয়ার পরে সেদিন দুপুরে ঝগড়াটা হল, কিন্তু তাঁর সঙ্গে নয়। সায়ন আর কোয়েলের মধ্যে।

ছোট অনুরোধ, জমে ওঠা ক্ষোভ

শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বেশিরভাগ টানাপোড়েন কোনো বড় ঘটনা দিয়ে শুরু হয় না। শুরু হয় এমন একটা অনুরোধ দিয়ে, যাতে না বলাটাই অভদ্রতা মনে হয়: একটা চাবি, রোজ রাতে একটা ফোন, প্রতি রবিবার ও বাড়িতে দুপুরের খাওয়া, বাচ্চাকে কী খাওয়ানো উচিত তা নিয়ে একটা পরামর্শ। একবার মেনে নিতে অসুবিধে নেই। কিন্তু দশবার, পঞ্চাশবার মেনে নেওয়ার পরে যে ক্লান্তি জমে, সেটা আর অনুরোধের মাপে থাকে না। আর সেই ক্ষোভ প্রায় কখনোই সরাসরি শাশুড়ি বা শ্বশুরমশাইয়ের দিকে যায় না, কারণ তাঁদের মুখের ওপর কিছু বলা যায় না। সেটা গিয়ে পড়ে সঙ্গীর ওপর। একজন ভাবেন, তুমি তোমার মাকে কিছুই বলো না। অন্যজন ভাবেন, তুমি আমার মাকে সহ্যই করতে পারো না। দু'জনেই খানিকটা ঠিক, আর দু'জনেই একা।

সীমা মানে দেওয়াল নয়, দরজার বেল

সীমা টানার কথা শুনলেই অনেকে ভাবেন সম্পর্ক কমিয়ে ফেলার কথা হচ্ছে। আসলে ব্যাপারটা উল্টো। একটা ভালো সীমা সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে, কারণ সেটা ক্ষোভ জমতে দেয় না। সীমা মানে অন্যের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা নয়; সীমা মানে আপনারা নিজেরা কী করবেন আর কী করবেন না, সেটা পরিষ্কার করে জানানো। মা আর আসবেন না, এটা সীমা নয়। আসার আগে একটা ফোন করে এলে আমাদের সুবিধে হয়, রবিবার এগারোটা পর্যন্ত আমরা বিশ্রাম নিই, এটা সীমা। দেওয়াল মানুষকে বাইরে রাখে; দরজার বেল শুধু মনে করিয়ে দেয় যে ভেতরে দু'জন মানুষ থাকেন, যাঁদের নিজস্ব একটা ছন্দ আছে। অনেক সময় শাশুড়ির ঘনঘন আসার পেছনে থাকে একাকীত্ব, অবসরের পরে দিনের ফাঁকা ঘণ্টা, বা ছেলের সংসারে এখনও দরকারি থাকার ইচ্ছে। এটা বুঝলে কথাটা নরম করে বলা অনেক সহজ হয়।

আগে দু'জনে এক পাতায়

শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে কথা বলার আগে সবচেয়ে জরুরি আলোচনাটা হয় নিজেদের দু'জনের মধ্যে। ঝগড়ার দিনে নয়, একটা শান্ত সন্ধেয়, চা নিয়ে বসুন।

  • দু'জনেই আলাদা করে লিখুন, এই যাতায়াতে কী ভালো লাগে আর কোন নির্দিষ্ট জিনিসটা কষ্ট দেয়। মা সবসময় নাক গলান নয়; না জানিয়ে চাবি দিয়ে ঢুকে পড়া, এইভাবে নির্দিষ্ট করে।
  • একবারে একটাই বিষয় বাছুন। চাবি, রান্না নিয়ে মন্তব্য, বাচ্চা মানুষ করার পরামর্শ, সব একদিনে তুললে সেটা অভিযোগের ফর্দ হয়ে যায়।
  • নিয়ম করুন, যাঁর মা-বাবা কথাটা তিনিই বলবেন। ছেলের মুখে যেটা অনুরোধ, বউমার মুখে সেটাই অনেক সময় অপমান বলে শোনায়; জামাইয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা।
  • কোন শব্দে বলবেন, আগেই ঠিক করে নিন, যাতে কথার মাঝপথে একজন অন্যজনকে একা ছেড়ে না দেন।
  • অনুরোধ না মানা হলে পরের ধাপ কী হবে, সেটাও আগে থেকে ঠিক থাকুক, যাতে প্রতিবার নতুন করে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া না বাধে।

কোন কথা কীভাবে বলা যায়

নিচের কথাগুলো মুখস্থ করার জন্য নয়, সুরটা ধরার জন্য। প্রতিটায় আগে ভালোবাসা বা কৃতজ্ঞতা, তারপর অনুরোধ, আর শেষে একটা বিকল্প, যাতে সামনের মানুষটার হাতেও কিছু থাকে।

পরিস্থিতিযেভাবে বলা যায়যা এড়িয়ে চলুন
না জানিয়ে চলে আসামা, তুমি এলে পুপু খুব খুশি হয়। শুধু আসার আগে একটা ফোন করে নিয়ো, রবিবার সকালটা আমরা একটু দেরিতে উঠি। চাবিটা তোমার কাছেই থাক, সত্যিকারের দরকারের দিনের জন্য।হঠাৎ চাবি ফেরত চেয়ে নেওয়া, বা বেল বাজলে দরজা না খোলা
রান্না বা ঘর গোছানো নিয়ে মন্তব্যতোমার আলুপোস্তটা সত্যিই অন্যরকম, একদিন শিখিয়ে দিয়ো। তবে এই রান্নাঘরটা কোয়েল নিজের মতো সাজিয়েছে, ওটা ওর মতোই থাকুক।তখন চুপ করে থেকে পরে সঙ্গীর ওপর রাগ ঝাড়া
বাচ্চা মানুষ করার পরামর্শতোমার কথাটা শুনলাম। ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে আমরা যেটা ঠিক করেছি, আপাতত সেটাই চালাব, দরকার হলে তোমাকে জিজ্ঞেস করব।বাচ্চার সামনে তর্ক, বা তোমাদের সময় অন্যরকম ছিল বলে খোঁচা
প্রতি রবিবার ও বাড়িতে খাওয়ার দাবিমাসে দুটো রবিবার আমরা আসব, বাকি দুটো নিজেদের জন্য রাখছি। কোন দুটো, তুমিই বেছে নাও।প্রতিবার শেষ মুহূর্তে অজুহাত বানানো

প্রথমবারেই সব বদলাবে না

প্রথমবার বলার পরে কী হতে পারে, আগে থেকে জেনে রাখা ভালো। শাশুড়ি হয়তো আহত হবেন, কয়েকদিন ফোন কম করবেন, বা আত্মীয়দের কাছে বলবেন ছেলে বদলে গেছে। কেউ হয়তো নিজের শরীর খারাপের কথা তুলবেন। এর কোনোটাই প্রমাণ করে না যে আপনারা ভুল করেছেন; পুরনো অভ্যেস বদলাতে গেলে দু'পক্ষেরই একটু কষ্ট হয়। এই সময়টায় দুটো জিনিস একসঙ্গে ধরে রাখতে হয়। এক, উষ্ণতা: নিজেরা ফোন করুন, খোঁজ নিন, পরের বার কবে যাচ্ছেন সেটা নিজেরাই জানান, যাতে বোঝা যায় আপনারা দূরে সরছেন না। দুই, ধারাবাহিকতা: পরের রবিবার আবার না জানিয়ে এলে সেই একই নরম গলায় একই কথা বলুন। রাগ দেখিয়ে নয়, কথা বন্ধ করে শাস্তি দিয়ে নয়, শুধু একই কথা। তিন-চারবারের পরে অনেক পরিবারেই নতুন ছন্দটা আস্তে আস্তে বসে যায়।

কখন ব্যাপারটা আর মানিয়ে নেওয়ার নয়

সব সমস্যা নরম কথায় মেটে না, আর সব মেটানোর দায়ও আপনার একার নয়। যদি নিয়মিত অপমান, গালিগালাজ, বাপের বাড়ির লোকজনকে নিয়ে খোঁটা, মাইনে বা গয়না হাতে তুলে দেওয়ার চাপ, কার সঙ্গে দেখা করবেন বা ফোনে কথা বলবেন তা নিয়ন্ত্রণ করা, কিংবা গায়ে হাত তোলার ঘটনা থাকে, তাহলে এটা আর সীমার প্রশ্ন নয়, নিরাপত্তার প্রশ্ন। সেখানে পথটাও অন্যরকম: একজন পারিবারিক কাউন্সেলরের সাহায্য নিন, ঘটনাগুলো তারিখ দিয়ে লিখে রাখুন, নিজের নথিপত্র আর কিছু টাকা নিজের কাছে রাখুন, আর অন্তত একজন বিশ্বস্ত মানুষকে সবটা জানিয়ে রাখুন। শারীরিক বিপদের আশঙ্কা হলে দেরি না করে 112 নম্বরে ফোন করুন। আর এই টানাপোড়েনে যদি রাতের ঘুম চলে যায়, সারাক্ষণ বুক ধড়ফড় করে বা মনে হয় আর পারছি না, তাহলে Tele-MANAS-এর 14416 নম্বরে বিনা খরচে, দিনরাত যে কোনো সময় বাংলায় কথা বলা যায়।

শ্রদ্ধা মানে সব কথায় হ্যাঁ বলা নয়। শ্রদ্ধা মানে না বলার সময়েও গলাটা নরম রাখা।

কোষ্ঠী দিয়ে কাউকে দোষী বানাবেন না

ঝগড়ার পরে অনেকে জানতে চান, শাশুড়ির সঙ্গে কি আমার গ্রহের মিল নেই, নাকি কোষ্ঠীতেই এই অশান্তি লেখা। এই প্রশ্নে একটা ফাঁদ আছে। কারও জন্মছক দেখে তাঁকে কঠিন মানুষ বলে দাগিয়ে দিলে কথা বলার রাস্তাটাই বন্ধ হয়ে যায়, আর কারও কোষ্ঠী তাঁর অনুমতি ছাড়া দেখাও ঠিক নয়। জ্যোতিষ বড়জোর নিজের দিকটা একটু শান্তভাবে দেখতে সাহায্য করতে পারে: কোন সময়টায় আপনি নিজে বেশি অস্থির, কোথায় আপনার ধৈর্য তাড়াতাড়ি ফুরোয়। Astro Ratan একটা এআই বৈদিক জ্যোতিষী; সেখানে পরিবারের প্রত্যেকের আলাদা প্রোফাইল রাখা যায়, তবে প্রত্যেকের নিজের ছক থেকে, আর তাঁর সম্মতি নিয়ে। শ্বশুর-শাশুড়ির বয়স বাড়লে তাঁদের দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়েও এমন টানাপোড়েন আসে; একমাত্র সন্তানের সেই ভার নিয়ে লেখাটা পড়ে দেখতে পারেন। আর কোনো অ্যাপ যদি সংসারে অশান্তির ভয় দেখিয়ে দামি পুজো গছাতে চায়, সেই ধরনের ভয়ের বার্তা চেনার উপায় জেনে রাখুন।

পরের রবিবার

শনিবার রাতে সায়ন নিজেই মাকে ফোন করলেন। প্রথমে জিজ্ঞেস করলেন বাবার হাঁটুর ব্যথা কেমন, তারপর বললেন, কাল এগারোটার পরে এসো মা, আসার আগে একটা ফোন কোরো, আর দুপুরে আমাদের সঙ্গেই খেয়ে যেয়ো। ওপাশে খানিকক্ষণ চুপ। তারপর শাশুড়ি বললেন, আচ্ছা, তোরা যা ভালো বুঝিস। গলায় অভিমান ছিল, কোয়েল পাশ থেকে স্পষ্ট শুনতে পেলেন। রবিবার এগারোটা কুড়িতে বেল বাজল। চাবিটা শাশুড়ির ব্যাগেই ছিল, তিনি সেটা বের করেননি। কৌটোয় সেদিনও আলুপোস্ত। কোয়েল চা বসালেন, আর জিজ্ঞেস করলেন পোস্তটা এত মিহি বাটা হয় কী করে। সব মিটে যায়নি। কিন্তু সেই দুপুরে ঝগড়াটা হল না, আর অনেকদিন পরে সায়ন আর কোয়েল একই দিকে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

Key takeaways

  • শ্বশুরবাড়ি নিয়ে জমা ক্ষোভ সাধারণত গিয়ে পড়ে সঙ্গীর ওপর, তাই প্রথম আলোচনাটা হোক স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে।
  • সীমা মানে অন্যকে আটকানো নয়; নিজেরা কী করবেন আর কী করবেন না, সেটা পরিষ্কার করে বলা।
  • যাঁর মা-বাবা, অনুরোধটা তিনিই করলে সেটা কম আঘাত দেয় আর কম ভুল বোঝা হয়।
  • আগে ভালোবাসা, তারপর অনুরোধ, শেষে একটা বিকল্প: এই ক্রমে বললে কথাটা কঠিন শোনায় না।
  • নিয়মিত অপমান, টাকার চাপ বা গায়ে হাত তোলা থাকলে সেটা নিরাপত্তার প্রশ্ন; সেখানে বাইরের সাহায্য আর 112।

যে দম্পতি প্রতি রবিবার মায়ের আসা নিয়ে নিজেদের মধ্যেই ঝগড়া করে ফেলে, তাদের জন্য: আগে দু'জনে এক হওয়া, তারপর নরম করে বলার একটা পরিষ্কার পথ।

এই টানাপোড়েনের সময়টা আপনার নিজের কোষ্ঠীতে কেমন দেখায়, আর পরিবারের প্রোফাইল কীভাবে সম্মতি নিয়ে রাখা যায়, Astro Ratan-কে বাংলায় লিখে জিজ্ঞেস করুন।

FAQ

স্বামী যদি নিজের মাকে কিছুতেই কিছু বলতে না চান?

অনেক ছেলের কাছে মাকে কিছু বলা মানে অকৃতজ্ঞ হওয়া, তাই আগে ভয়টা বুঝুন। তাঁকে বলুন, আপনি মাকে দূরে সরাতে চাইছেন না, শুধু একটা নির্দিষ্ট জিনিস বদলাতে চাইছেন। শব্দগুলো একসঙ্গে লিখে নিন, আর শুরু করুন ছোট কোনো বিষয় দিয়ে, যাতে তিনি দেখেন বলার পরেও সম্পর্ক ভেঙে পড়ে না।

যৌথ পরিবারে একই বাড়িতে থাকলে কি সীমা টানা সম্ভব?

সম্ভব, তবে সেখানে সীমাগুলো হয় সময় আর জায়গার। যেমন নিজেদের ঘরের দরজা বন্ধ থাকলে টোকা দিয়ে ঢোকা, সপ্তাহে একটা সন্ধে শুধু দু'জনের, বাচ্চার পড়াশোনার সিদ্ধান্ত তার মা-বাবার। বাড়ির সবাইকে নিয়ে একটা আলোচনায় এগুলো বললে কাউকে আলাদা করে দোষী মনে হয় না।

শ্বশুরবাড়ি থেকে বারবার টাকা চাওয়া হলে না বলব কীভাবে?

মা-বাবাকে সাহায্য করা অনেক পরিবারে স্বাভাবিক দায়িত্ব; গোলমাল হয় যখন সেটা হিসাব আর আলোচনা ছাড়া চলে। দু'জনে মিলে ঠিক করুন মাসে কত টাকা পরিবারের জন্য রাখা যায়, আর দু'দিকের মা-বাবার ক্ষেত্রে সেটা একই নিয়মে চলুক। বড় কোনো চাওয়া এলে বলুন, আমরা দু'জনে বসে কথা বলে জানাচ্ছি।

সীমা টানার পরে শাশুড়ি কথা বলা কমিয়ে দিলে কী করব?

অভিমান হলে কিছুদিন দূরত্ব আসতেই পারে; সেটাকে শাস্তি হিসেবে না দেখে একটু সময় দিন। আপনারা নিজেরা যোগাযোগ রাখুন, খোঁজ নিন, পুজো-পার্বণে ডাকুন। তবে পুরনো নিয়মে ফিরে যাওয়াকে মিটমাটের শর্ত বানাবেন না।

আত্মীয়রা বলছেন বউ এসে ছেলেকে পর করে দিয়েছে, কী উত্তর দেব?

এই কথার জবাবে তর্ক করে লাভ কম। যাঁর পরিবার, তিনিই শান্তভাবে বলুন, সিদ্ধান্তটা আমাদের দু'জনের, আর মায়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ঠিকই আছে। কথাটা সঙ্গীর মুখ থেকে এলে আপনাকে আর একা সাফাই দিতে হয় না।